ZamZam Travels BD Loading

হজ্জের সময় করণীয় ও বর্জনীয় কাজসমূহ

হজ্জের সময় কী কী করণীয় এবং কী কী বর্জনীয়—তা নিয়ে সহজ, নির্ভুল ও প্রফেশনাল বাংলা গাইড। ইহরাম, আরাফাত, তাওয়াফ, সাঈ, মিনাসহ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জানুন।

  1. Home
  2. Blog
  3. হজ্জের সময় করণীয় ও বর্জনীয় কাজসমূহ
Back to blogs Oct 08, 2024
হজ্জের সময় করণীয় ও বর্জনীয় কাজসমূহ

হজ্জের সময় করণীয় ও বর্জনীয় কাজসমূহ: একজন হাজীর পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা

 

হজ্জ মুসলমানের জীবনের সবচেয়ে মহিমান্বিত ইবাদতগুলোর একটি। এটি ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ, আর সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর অন্তত একবার হজ্জ আদায় করা ফরজ। হজ্জ শুধু একটি সফর নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, আনুগত্য, ধৈর্য, ত্যাগ এবং আল্লাহর দিকে পূর্ণ আত্মসমর্পণের এক অনন্য প্রশিক্ষণ। তাই হজ্জে যাওয়ার আগে কী করতে হবে এবং কী থেকে বিরত থাকতে হবে—এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। (Quran.com)

 

হজ্জ কী এবং কার ওপর ফরজ?

হজ্জ অর্থ নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহর ঘরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে নির্ধারিত পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট ইবাদতসমূহ আদায় করা। কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, যাদের সামর্থ্য আছে তাদের ওপর বায়তুল্লাহর হজ্জ ফরজ। আলেমরা সাধারণভাবে বলেছেন, হজ্জ ফরজ হওয়ার জন্য মানুষকে মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থবুদ্ধিসম্পন্ন এবং শারীরিক-আর্থিকভাবে সক্ষম হতে হবে। (Quran.com)

وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا
অর্থ: “আর মানুষের ওপর আল্লাহর জন্য এ ঘরের হজ্জ করা ফরজ—যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে।”
(সূরা আলে ইমরান ৩:৯৭) (Quran.com)

 

কুরআন ও হাদিসে হজ্জের গুরুত্ব

হজ্জের গুরুত্ব কুরআন-সুন্নাহতে অত্যন্ত শক্তভাবে এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা আল্লাহর জন্য হজ্জ ও উমরাহ পূর্ণ কর।” আবার তিনি ইবরাহিম (আ.)-কে নির্দেশ দেন মানুষের মধ্যে হজ্জের ঘোষণা দিতে, যাতে তারা দূর-দূরান্ত থেকে এসে এ মহান ইবাদতে অংশ নেয়। (Quran.com)

وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ
অর্থ: “তোমরা আল্লাহর জন্য হজ্জ ও উমরাহ পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পন্ন করো।”
(সূরা আল-বাকারা ২:১৯৬) (Quran.com)

وَأَذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالًا...
অর্থ: “মানুষের মধ্যে হজ্জের ঘোষণা দাও; তারা তোমার কাছে পায়ে হেঁটে এবং দূর-দূরান্ত থেকে নানা বাহনে চড়ে আসবে।”
(সূরা আল-হজ্জ ২২:২৭) (Quran.com)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত…”—তার একটি হলো আল্লাহর ঘরের হজ্জ। আরেক হাদিসে তিনি বলেন, “যে হজ্জ করতে চায়, সে যেন তাড়াতাড়ি করে।” অর্থাৎ, সামর্থ্য হলে হজ্জকে অকারণে পিছিয়ে দেওয়া উচিত নয়। (Sunnah.com)

 

হজ্জের সময় করণীয় কাজসমূহ

হজ্জের কাজগুলোকে বুঝতে হলে মনে রাখতে হবে—ফিকহি ব্যাখ্যায় রুকন, ওয়াজিব ও সুন্নাহর বিন্যাসে কিছু পার্থক্য পাওয়া যায়। যেমন, কিছু আলেম হজ্জের চারটি মৌলিক রুকন উল্লেখ করেন, আবার ওয়াজিব কাজের আলাদা তালিকাও দেন। তাই বাস্তবে একজন হাজীর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ হলো—নিজ দলের নির্ভরযোগ্য আলেম বা মুয়াল্লিমের নির্দেশনা মেনে চলা। (Islam Web)

১) ইহরাম, নিয়ত ও তালবিয়াহ দিয়ে শুরু করা

হজ্জের প্রথম ধাপ হলো ইহরাম। মীকাত থেকে ইহরামের নিয়ত করতে হয় এবং তালবিয়াহ পাঠ শুরু করতে হয়। ইহরাম শুধু পোশাক নয়; এটি হৃদয়ের একটি অবস্থা—যেখানে বান্দা আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে নিজেকে নিষিদ্ধ বিষয় থেকে সংযত রাখে। (media1.haj.gov.sa)

২) আরাফাতে অবস্থানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া

হজ্জের কেন্দ্রীয় আমলগুলোর মধ্যে আরাফাতে অবস্থান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “হজ্জ হলো আরাফা।” অর্থাৎ, আরাফাতে উপস্থিতি ছাড়া হজ্জের মূল উদ্দেশ্য পূর্ণ হয় না। তাই ৯ জিলহজ্জ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান, দোয়া, তওবা ও জিকির—এসবকে হজ্জের প্রাণ হিসেবে নিতে হবে। (Sunnah.com)

৩) তাওয়াফ, সাঈ, মিনা, মুযদালিফা ও জামারাত ঠিকভাবে আদায় করা

হজ্জের মৌলিক আমলগুলোর মধ্যে ইহরাম, আরাফাতে অবস্থান, তাওয়াফে ইফাদা এবং সাঈকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি মিনায় অবস্থান, মুযদালিফায় থাকা, জামারাতে কংকর নিক্ষেপ, কুরবানি এবং চুল কাটা—এসব আমল হজ্জকে পূর্ণতা দেয়। যে হাজী আগে থেকে ধাপগুলো বুঝে যায়, তার জন্য ইবাদতটি অনেক সহজ হয়ে যায়। (Islam Web)

৪) বেশি বেশি জিকির, দোয়া ও ইস্তিগফার করা

হজ্জের সময় শুধু বাহ্যিক কাজ করলেই হবে না; হৃদয়কেও জাগ্রত রাখতে হবে। তালবিয়াহ, তাসবিহ, তাহলিল, তাকবির, কুরআন তিলাওয়াত, ইস্তিগফার এবং ব্যক্তিগত দোয়া—এসব হজ্জকে প্রাণবন্ত করে। বিশেষ করে আরাফার দিন দোয়ার জন্য সবচেয়ে মহিমান্বিত সময়গুলোর একটি। (Quran.com)

৫) শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও স্বাস্থ্যসচেতনতা বজায় রাখা

হজ্জে ভিড়, ক্লান্তি, গরম, দীর্ঘ হাঁটা—সবই আছে। তাই হজ্জের সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা, বিশ্রাম নেওয়া, প্রয়োজনীয় ওষুধ রাখা, এবং অযথা ঝুঁকি না নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা ইবাদতের মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে। (haj.gov.sa)

 

হজ্জের সময় বর্জনীয় কাজসমূহ

কুরআনে হজ্জের সময় তিনটি বড় সতর্কতা দেওয়া হয়েছে—অশ্লীলতা, পাপাচার, এবং ঝগড়া-বিবাদ থেকে দূরে থাকতে হবে। অর্থাৎ, হজ্জের সফরে শুধু ইহরামের নিষেধাজ্ঞা মানলেই হবে না; ভাষা, আচরণ, রাগ, তর্ক, গীবত, কটু কথা—সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। (Quran.com)

فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ
অর্থ: “হজ্জের মধ্যে অশ্লীলতা নেই, গোনাহ নেই এবং ঝগড়া-বিবাদ নেই।”
(সূরা আল-বাকারা ২:১৯৭) (quranv.com)

১) ইহরামের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করা যাবে না

ইহরামে প্রবেশের পর চুল-নখ কাটা, সুগন্ধি ব্যবহার, যৌন সম্পর্ক বা তার ভূমিকা তৈরি করে এমন আচরণ—এসব নিষিদ্ধ। সরকারি গাইডেও এসব বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। (haj.gov.sa)

২) শিকার বা প্রাণীহানির মতো কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে

ইহরাম অবস্থায় শিকার করা বা অকারণে প্রাণীহানি করা নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর মধ্যে পড়ে। এর মাধ্যমে হাজীকে শেখানো হয়—সে এখন একটি পবিত্র ইবাদতের ভেতরে আছে; তাই তার আচরণও হতে হবে নিয়ন্ত্রিত ও সংযত। (Islamic Relief UK)

৩) ভিড়ে ধাক্কাধাক্কি, উচ্চস্বরে ঝগড়া বা অন্যকে কষ্ট দেওয়া যাবে না

কাবাঘর, তাওয়াফ, সাঈ, জামারাত—সব জায়গাতেই ভিড় হতে পারে। কিন্তু ইবাদতের নামে অন্যকে ধাক্কা দেওয়া, মারামারি করা, গালি দেওয়া বা রাগ ঝাড়া হজ্জের রূহের বিরুদ্ধে যায়। একজন সত্যিকারের হাজী নিজের আমল যেমন ঠিক রাখে, তেমনি অন্য হাজীর নিরাপত্তাও গুরুত্ব দেয়। (Quran.com)

৪) হজ্জকে শুধু “ট্যুর” বানিয়ে ফেলা উচিত নয়

হজ্জের মূল লক্ষ্য হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টি। তাই অতিরিক্ত ছবি তোলা, অপ্রয়োজনীয় বাজার করা, দলছুট হয়ে ঘোরাফেরা করা, অথবা ইবাদতের চেয়ে আরাম-আয়েশকে বড় করে দেখা—এসব থেকে দূরে থাকাই উত্তম। এটি সরাসরি কোনো একটি রুকনের ভাঙন না হলেও হজ্জের আসল আধ্যাত্মিক স্বাদকে দুর্বল করে দেয়। (Islam Web)

 

দক্ষ মুয়াল্লিম বা গাইড কেন জরুরি

হজ্জের কাজগুলো শুধু জানলেই যথেষ্ট নয়; সঠিক সময়, সঠিক ক্রম, সঠিক জায়গা—এসবও গুরুত্বপূর্ণ। তাই একজন দক্ষ মুয়াল্লিম থাকলে হাজীরা বিভ্রান্ত হন কম, ভুল কম হয়, এবং ইবাদতে মনোযোগ বেশি থাকে। বিশেষ করে নতুন হাজীদের জন্য একটি অভিজ্ঞ গাইড পুরো সফরকে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক করে। এই বিষয়টি বাস্তব অভিজ্ঞতা দিয়েও বোঝা যায়—যে হাজী আগেভাগে প্রশিক্ষণ নেয়, সে সাধারণত বেশি আত্মবিশ্বাস নিয়ে হজ্জ আদায় করতে পারে। (Islam Web)

 

জমজম ট্রাভেলস বিডি: আপনার হজ্জ যাত্রার সহযাত্রী

Zamzam Travels BD–এর ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০১২ সালে স্থানীয়ভাবে শুরু হয় এবং তারা হজ্জ, উমরাহ ও জিয়ারত-সংশ্লিষ্ট সেবা দিয়ে আসছে। তাদের সাইটে Hajj Package, Umrah Package, এবং Hajj Training—এ ধরনের সেকশনও রয়েছে। ওয়েবসাইটে উল্লেখিত ঢাকা অফিসের ঠিকানা হলো ৩২ পুরানা পল্টন, সুলতান আহমেদ প্লাজা, ১১তম তলা, স্যুট-১২০২, ঢাকা-১০০০। (Zamzam Travels BD)

আপনি যদি এমন একটি হজ্জ সফর চান যেখানে রীতিনীতি বোঝানো, প্যাকেজ পরিকল্পনা, গাইডেন্স, এবং প্রস্তুতি—সবকিছু একটি জায়গা থেকে সাজানো থাকে, তাহলে Zamzam Travels BD-এর মতো অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া বাস্তবিকভাবেই উপকারী হতে পারে। (Zamzam Travels BD)

 

উপসংহার

হজ্জের সময় করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো জানা প্রতিটি হাজীর জন্য অপরিহার্য। কারণ হজ্জ শুধু সফর নয়, এটি নিয়ত, শৃঙ্খলা, ধৈর্য, তাকওয়া এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের এক মহাসাধনা। ইহরাম, আরাফাত, তাওয়াফ, সাঈ, মিনা, মুযদালিফা—প্রতিটি ধাপের আলাদা গুরুত্ব আছে; আবার অশালীনতা, পাপাচার, ঝগড়া, ইহরামের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন—এসব থেকে বাঁচাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে এবং অভিজ্ঞ গাইডের সহায়তায় প্রস্তুতি নিলে হজ্জ অনেক বেশি সুন্দর, সুশৃঙ্খল এবং গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। (quranv.com)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সহীহভাবে হজ্জ আদায়ের তাওফিক দান করুন এবং মকবুল হজ্জ নসিব করুন। আমীন।